Thursday, January 19, 2017

" আইস্ক্রীম পাগলী """


মেঘা- আমার কথার দাম নাই! তাই না? আমি
মরলেই কি! বাঁচলেই কি! বা বাপের
বাড়ি চলে গেলেই কি! তাতে তো
আপনার কোন আসবেও না, যাবেও না।
(অভিমানে)
আশিক- হ্যাঁ একদম ঠিক বলছেন।আপনার কথার
কোনো দাম নাই! আপনি কে? আপনি
আমার কে হন? আপনি তো আমার কেউ না!
আপনি মরলেই কি! বাঁচলেই কি! বা বাপের
বাড়ি চলে গেলেই কি! আমার কিছু আসবেও
না, যাবেও না, বরং আমার আরও ভালো হবে।
কারণ আরেক টা বউ আনা যাবে,
তার সাথে প্রেম পিরিতি করা যাবে, আরও
কতকিছু!

(রাগে)
মেঘা - ছি! ছি! ছি! এই ছিল! আপনার মনে?
এই!
আল্লাহ তুমি আমারে এ কি শুনাইলা!
এই কথা শুনার আগে আমারে মৃত্যু কেন
দিলে না? এই জীবন রেখে কি করব
আমি? তুমি বল!
কই আমি রাগ-অভিমান করেছি তা
ভাঙ্গাবে; না উনি উল্টা ঝারি দেয়।
(কাঁদার ভাব ধরে) এই যে আপনি
শেষের কথাটা কি বলছেন?(কলারে
ধরে ও রাগী ভাব নিয়ে)
আশিক- কি বলছি শুনতে পাননি? ঠিকমত
শুনতে না পারলে কার কি!(কথা না শেষ না
হতেই মাইরশুরু করে দিলো মেঘা)
আশিক ছাড়েন আমাকে ছাড়েন আমার
লাগছে।
মেঘা- লাগলে লাগবে কারণ আপনি আমার
স্বামী।বেশী ব্যথা পেলে! আদর ও বেশী
পাবেন।বুঝছেন?
আশিক- এত আদরের দরকার নাই।(অভিমানে)
মেঘা- ক্যারে! নতুন বউ এর আদর পেতে ইচ্ছা
করছে?
আশিক- হু করছে তাতে আপনারর কোন
সমস্যা?
মেঘা- না আমার সমস্যা না, আমার কপালের
সমস্যা।আব্বাহ গো তুমি আমারে কার কাছে
বিয়া দিলা? দুই দিন ও হয় নাই
এখনেই আরেকটা বিয়ে করতে উনার মন চায়!
আশিক- আপনার কপালের দোষ না আমার
কপালের দোষ।
মেঘা- কিহ!(কেঁদে কেঁদে)
আশিক- হুম।কারণ আপনার মতো এত ভাল স্ত্রী
পেয়েছি।আপনি আমার সব কথা শুনেন
মানেন।কিন্তু আমি! আপনার একটা
কথাও শুনি না মানি না! এটা আমার
দোষ না?(অভিমানী সুরে)
কথা গুলো শুনে মেঘার মন খারাপ হয়ে
যায়।এখন নিজের কাছেই তার খারাপ
লাগতে থাকে।
আজ রাতে মেঘা আইসক্রীম খেতে চেয়ে
ছিলো কিন্তু ।আশিক খেতে দেয় নি কারন
মেঘার ঠান্ডা লেগেছে"
মেঘা- কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর আবার
বলতে থাকে
- আইসক্রীম খেতে চাওয়া হয় যদি
আমার অপরাধ! আচ্ছা আর খেতে
চাইবো না।আপনার টাকার এতই দরদ!
এতই দাম! আর আমার জন্য কোন দরদ নাই!
আশিক- আমার কথার ও কোন দাম নাই! আরও
উল্টা কথা শুনান। আচ্ছা! মনে থাকব।
- এত ভাব নিয়ে কেন কথা বলেন? ও
ভাবছেন এভাবে কথা বললেই আমি
গলে যাব! তাই না? আমি তো কোনদিন
আপনাকে আইসক্রীম খাওয়াই নাই!
যখনেই যা চেয়েছেন তা এনে দেই
নাই! তাই না? হ্যাঁ ঠিক বলছেন আমার
টাকার দরদ আছে, টাকার দাম আছে।
কিন্তু ভালবাসার কোনো দাম নাই!
তাই তো !it's 100% real
মেঘা- কি উত্তর দিবে বুঝতে পারছে না?
এইকথা গুলো শুনে মেঘা কেঁদেই
ফেলে।তারপর মেঘা বলে
- দয়া করে আপনার এই কথা গুলো বন্ধ
করুন।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।
আশিক- এখন আপনি আমার
সামনে থেকে সরে যান।
মেঘা সরে না দেখে, আশিক স নিজেই
অন্যরুমে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পর আশিক বেলকনিতে
দাঁড়িয়ে থেকে শীতের প্রকৃতি
দেখতে থাকে।মেঘা পিছনে এসে
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।
কাঁদতে কাঁদতে বলে
- দেন না আমাকে ক্ষমা করে! একবার
ক্ষমা করে দিলে কি এমন ক্ষতি হবে?
আমি কি ইচ্ছা করে ভুল করি! কিভাবে
যেন ভুল হয়ে যায়।
- এই যে ক্ষমা করে দেওয়া যায় না!
যেহেতু আমার কথার কোন দাম নাই তাহলে
আমার থাকার ও কোন মানে
নাই(কথাটা শেষ করতে পারেনি তার
আগেই মেঘা মুখ চেপে ধরে আশিক)
তখন দুজনেই দুজনকে দেখতে থাকে ও
চোখের পানি ফেলতে থাকে।
আশিক চোখের ইশারায় চুপ থাকতে
বলে।তারপর বলে
আশিক- বেশী কথা বলা শিখে গেছো তাই না
তোমার ঠান্ডা লেগেছে
ও শরীরে জ্বরও উঠতেছে দেখেও
কিভাবে বল আইসক্রীম খাবে? তোমার
ভালোর জন্যই তো তোমাকে খেতে
না করেছিলাম। তোমার অসুখ না
থাকলে কি আমি কখনো তোমাকে
খেতে না করি তুমি বুঝ না? তোমার
কিছু হয়ে গেলে আমার কি হবে! বল?
মেঘা- কথা দিচ্ছি আর কখনো এমন টা হবে
না।
আশিক- সত্যি(চোখের ভাষায়)
হুম- হুম(চোখের ইশারায়)
তারপর চুপচাপ আশিকের বুকে মাথা
রেখে মেঘা আদর-ভালবাসা নিতে থাকে।
এভাবেই রাগ-অভিমান ভুলে
তারা আবার কাছে চলে আসে।

No comments:

Post a Comment